বৃহস্পতিবার, ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ বৃহস্পতিবার | ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ইসলামপুরের নৌকার মাঝি হতে চান ব্যবসায়ী আলহাজ্ব ফরিদুল ইসলাম খাঁন

শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ | ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ | 268Views

ইসলামপুরের নৌকার মাঝি হতে চান ব্যবসায়ী আলহাজ্ব ফরিদুল ইসলাম খাঁন

সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁহ।

কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব ফরিদুল ইসলাম খাঁন আওয়ামীলীগের জন্য নিবেদিত প্রাণ।

তিনি দলের ক্রান্তিকালে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি নির্দেশ পালনের মাধ্যমে সাংগঠনিক ঈদগাঁহ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করতে সর্বাত্নক চেষ্টা করেছেন।

সামরিক শাসন আর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে রাজপথে ছিলেন তৎকালীন নাজিরহাট কলেজ ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুল ইসলাম খাঁন।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করে তিনি ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম ফটিকছড়ি থানায় ৩ দিন জেল খেটেছেন।

আলহাজ্ব ফরিদুল ইসলাম খাঁন এর মত ত্যাগী নেতাদের অবদানের কারণেই আওয়ামী লীগ আজ তৃতীয় বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে ১যুগেরও বেশি সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী আলহাজ্ব ফরিদুল ইসলাম খাঁন কোন হাইব্রিড নেতা নন।

তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করেন।

বিভিন্ন সময়ে হামলা-মামলা-নির্যাতন সহ্য করে তিনি এক এক করে হয়েছেন ১৯৮৬ সালে নাজিরহাট কলেজিয়েট স্কুল শাখার ছাত্রলীগের সহ সভাপতি, ১৯৮৮ সালে নাজিরহাট কলেজ শাখার সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, পরবর্তীতে নিজ এলাকা ইসলামপুর ইউনিয়ন আ’লীগের হাল ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আন্দোলন সংগ্রামে সব সময় সামনের কাতারে থেকে নেতৃত্বদানকারী আলহাজ্ব ফরিদুল ইসলাম খাঁন ইসলামপুরে ১৯৯৭ সালে তৎকালীন ভুমি মন্ত্রী রাশেদ মোশাররফকে এলাকা পরিদর্শন করে ঘুর্ণিঝড় কবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরন করে কুড়িয়েছেন সুনাম।

তারই প্রচেষ্টায় তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়াকে শিল্প এলাকা ইসলামপুর পরিদর্শন কাজে তার একনিষ্ট ভুমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

দলের জন্য সর্বদা নিবেদিত এ মানুষটি চান দলের জন্য কাজ করতে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি নির্দেশ পালনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে তিনি প্রাণপন লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন খাঁটি সৈনিক আলহাজ্ব ফরিদুল ইসলাম খাঁন আন্দোলন সংগ্রামে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন রাজনীতির মাঠ।

রাজনীতির মাঠে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে দীর্ঘ ৪ দশক ধরে তিনি আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

আলহাজ্ব ফরিদুল ইসলাম খাঁনের ছাত্র রাজনীতির শুরু খুটাখালী উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায়। তখনকার স্থানীয় আ’লীগ নেতা ডা. মীর আহমদ হেলালীর হাত ধরে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন।

কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আ’লীগের প্রাণ পুরুষ মহি উদ্দীন চৌধুরীর আস্থাভাজন ছিলেন।

একদম তৃণমূল থেকে উঠে আসা ছাত্রনেতা থেকে বর্তমানে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ফরিদুল ইসলাম খাঁন নাজিরহাট কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় জামাত শিবিরের হামলার শিকার হন। তবেকার সময় কলেজ ভিপি নুরুল আমিন হামলায় মারা গেলেও তিনি জানে রক্ষা পান। তবুও রাজনীতির মাঠ ছাড়েননি।
রাজনীতির পাশাপাশি তার আছে অসাধারণ নেতৃত্বগুণ।

যার ফলশ্রুতিতে তিনি নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও ইসলামপুর দাখিল মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে।

তিনি ইসলামপুর মোহাম্মদিয়া জামে মসজিদ ও মোহাম্মদিয়া হেফজখানার প্রতিষ্টাতা পরিচালক, ইসলামপুর লবণমিল মালিক সমিতির অন্যতম সদস্য,কেন্দ্রীয় লবন মিল মালিক সমিতির মেম্বার, মোহাম্মদিয়া সল্ট ক্রাশিং মিলস্, মোহাম্মদিয়া এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী ও ইসলামপুর কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি হিসেবেও কাজ করছেন।

তাছাড়া তিনি ইসলামপুরের একজন প্রতিষ্টিত ব্যবসায়ী, জনবান্ধব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইসলামপুরের আসন্ন ইউপি নির্বাচনে তিনি ইউনিয়নের নৌকার মাঝি হিসাবে মনোনয়ন নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন।

আলহাজ্ব ফরিদুল ইসলাম খাঁন, কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুরের ব্যবসায়ী প্রয়াত হাজী মোহাম্মদ কালুর মেঝ পুত্র।

তাঁর পিতা ছিলেন তৎকালীন (মমতাজ- জাফর প্যানেলের) ইসলামপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সহ সভাপতি।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ২ ছেলে ৩ কন্যা সন্তানের জনক। বড় ছেলে আবরার ফাহিম চট্টগ্রাম পলিটেকনিক কলেজ থেকে ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে মাবিয়া সল্টের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
ছোট ছেলে আবরার মাহিম কক্সবাজার আল নুর কিন্ডার গার্ডেনে ৭ম শ্রেনীতে পড়ছেন।

তাঁর বড় ভাই মনছুর আলম ইসলামপুরের একজন প্রতিষ্টিত ব্যবসায়ী, ছোট ভাই মাওলানা আরিফুল ইসলাম মোহাম্মদিয়া জামে মসজিদের মতোয়াল্লীর দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি ১৯৮৬ সালে চট্টগ্রাম নাজিরহাট কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৮৮ সালে নাজিরহাট কলেজ থেকে এইচএসসি কৃতিত্বের সাথে পাশ করে একই কলেজে ডিগ্রিতে ভর্তি হন।

ঐ সময় কলেজে জামাত শিবিরের হামলায় ভিপি নুরুল আমিন মারা যান। গুরুত্বর আহত হয়ে জানে রক্ষা পান ফরিদ।
ঐ ঘটনার পর ফাইনাল পরীক্ষা দেয়া হয়নি তার। গ্রামে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

বিগত সময়ে প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান হিরুর নির্বাচনে নিজ এলাকা ডুলাফকির মাজারে জামাত শিবিরের হামলার শিকার আলহাজ্ব ফরিদুল ইসলাম খাঁন জানান, ইসলামপুর ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী পরিবারের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
কর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা অনেক। সকলেই চায় ত্যাগী, বিশ্বাসী ও বিশ্বস্ত যে কারো হাতে দলের প্রতীক দেয়া হোক।

তিনি বলেন, ইসলামপুরের সকল আওয়ামীলীগের কর্মীরা বুকভরা আশা নিয়ে দলের নেত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছেন।

সকলের বিশ্বাস নেত্রী তাকে নৌকা উপহার দিবেন। কারন তিনি দল বিরোধী কোন কাজ বা দলের ইমেজের কোন ক্ষতি হয় এমন কোন কার্যকলাপে জড়িত নন।

সকলেরই বিশ্বাস এ ইমেজকে ধরে রাখতে ত্যাগী এবং দলের প্রতি নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসাবে নেত্রী তাকে গুরুদায়িত্ব তোলে দিবেন।
সবশেষে তিনি সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

পেইজবুকে আমরা