সোমবার, ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
আজ সোমবার | ২৫শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ছবি আছে ঈদগাঁহ নদীর পাড় দখলের মহোৎসব!

শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২০ | ১:১২ অপরাহ্ণ | 138Views

ছবি আছে  ঈদগাঁহ নদীর পাড় দখলের মহোৎসব!

সেলিম উদ্দীন, কক্সবাজার

ছবির এইখানে এক নদী ছিল। এক সময় খরস্রোতা নদী ছিল। এখন হয়ে গেলো ড্রেন।
এই সুযোগে ইচ্ছেমত দখল শুরু করে বিভিন্ন আকারের স্থাপনা নির্মাণ শুরু হয়েছে।

কোথাও কোথাও আবার নদীর মধ্যেই সীমানা প্রাচীর দিয়ে দখল করে তৈরি হচ্ছে নানা স্থাপনা।

ইচ্ছেমত দখল ও দূষণে মরার উপক্রম হয়েছে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁহ নদী।

ঢেউ নেই, পানি নেই, পাড় নেই। এসবের বদলে আছে নদীর পাড়ে ভবন, বাড়িঘর, অবৈধ স্থাপনা, নদীর বুকে ময়লা আর বাজারের বর্জ্য নদীতে ফেলার ড্রেনেজ ব্যবস্থা। পানি দূষিত হওয়ার কারণে নেই পাঁচ মিশালী মাছ।

ঈদগাঁহ নদীকে আর নদী বলে মনে হয় না। যেন ঈদগাঁহ বাজারের সবচেয়ে বড় ড্রেন।

নদী বাঁচাতে কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রশাসন থেকে দখলদারের একটি তালিকা করলেও আবারো গড়ে উঠছে ছোট বড় স্থাপনা।

সরজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ঈদগাঁহ বাস ষ্টেশন হতে বাঁশঘাটা ব্রীজ পর্যন্ত নদী দখলের মহোৎসব। বাজারের সুপারি গলির শেষ প্রান্তে নদীর পাড়ে সন্তুষ নামের জনৈক দখলদার রাতারাতি গড়ে তুলেছে স্থাপনা।

ঈদগাঁহ নদী ঈদগড়ের বুক চিরে প্রবাহিত হয়ে সদর উপজেলার জালালাবাদ, ইসলামাবাদ, পোকখালী হয়ে ফুলছড়ি নদীতে গিয়ে মিলেছে।

এর মধ্যে দূষণ, দখল, ভরাটের কারনে এখন মরা নদী হিসেবে পরিণত হয়েছে।

সরকার জালালাবাদ পয়েন্টে রাবার ড্যাম নির্মাণের মাধ্যমে কৃষকদের পানি সেচ সুবিধা দিলেও নদী দখলবাজাদের মত পরিবর্তন হয়নি।

এতে ঈদগাঁহ ষ্টেশন থেকে পোকখালীর গোমাতলী ব্রীজ পর্যন্ত নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে দিনে দিনে সরু খালে পরিণত হচ্ছে।

একদিকে পানি শুন্যতা, অন্যদিকে ভরাট আর দখলের ফলে নদীটি এখন মৃতপ্রায়।

ঈদগাঁহ নদীটি বাজারের উভয় অংশে যে যেখানে পেরেছে দখল ও ভবন নির্মাণ করেছে।

বাঁশঘাটা পয়েন্টে ব্রীজের উত্তর পাশের পাড় দখল করে নদীর ভেতরে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে শুষ্ক মৌসুম আসার আগেই ঈদগাঁহ নদী এখন পানি শুন্য। দু’একটি স্থানে পানি দেখা গেলেও বাজারের প্রায় ১ কিলোমিটারে শুধু ড্রেনের পানি বয়ে যাচ্ছে। এসব এলাকায় দখল করা নদীর তীরে নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা।

ঈদগাঁহ নদী পাড়ের বাসিন্দারা জানান, নদীর পাড় দখল হয়ে আছে অনেক আগে থেকেই। কেউ ড্রেন করেছে। কেউ করেছে বাড়ি।

এছাড়াও ঈদগাঁহ বাজারের বড় বড় ড্রেনেজ ব্যবস্থাও করা হয়েছে নদীতে। এ কারণে বাজার এলাকার এই নদীতে আর মাছ পাওয়া যায় না।

ঈদগাঁহ বাজারের ব্যবসায়ী হাসান তারেক জানান, ঈদগাঁহ নদী দখল হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।

প্রশাসন থেকে মাঝে মাঝে কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও পরে আবারো অনেকেই সেই স্থানে অস্থায়ীভাবে ঘর উঠেছে।

নদীতে বর্ষা মৌসুম বা বন্যার সময় ছাড়া পানি দেখা যায় না। নদীর তলায় এখন ড্রেনের পঁচা পানি দেখা যায়। নদী না বলে বাজারের সবচেয়ে বড় ড্রেন এখন ঈদগাঁহ নদী। নদী থেকে প্রতিদিন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

ঈদগাঁহ বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুল সালাম জানান, তিনি এক সময় নদীতে নৌকা চলতে দেখেছেন। নদীতে মাছ ছিল। এখন সেই নদীতে মাছ তো দূরের কথা। পানির দিকে তাকানো যায় না।

বর্ষাকালে কিছু সময় পানি দেখা গেলেও সেটিও খুব বেশি দিন স্থায়ী হয় না। বৃষ্টিপাত কম হলেই আবারো নদীর পানি ঘোলা হয়ে যায়। বাজারের বেশিরভাগ ড্রেন নদীতে সংযুক্ত করা হয়েছে। নদীর পাড়ে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

ইসলামাবাদ বাঁশঘাটার খলিলুর রহমান জানান, নদীর পানি বাড়িঘরের উচ্ছিষ্টে ভরা। পঁচা-নোংরা পানি। দখল করে ঘর-বাড়ি করার কারণে নদীর অবস্থা খুবই করুণ। নদীকে আর নদী বলে মনে হয় না।

কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ঈদগাঁহ নদীর কয়েকটি স্থানে দখল হয়েছে। নদী দখল হয়ে যাওয়া স্থানে বাড়িঘর, ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে নদী দখলের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ ক’জন দখলদারের নামের তালিকা তৈরি করা হয়।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান, ঈদগাঁহ নদীর প্রাণ ফেরাতে একটি প্রস্তাবনা দরকার।
নদীর পাড় দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রথম ধাপে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং দ্বিতীয় ধাপে উচ্ছেদ চালানো হবে খুব ‌দ্রুত।


সর্বশেষ  
জনপ্রিয়  

পেইজবুকে আমরা