শনিবার, ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মানুষ গড়ার কারিগরের মুখে এ-কী কথা!!!

প্রসঙ্গ-পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে ভোট নেওয়া

শনিবার, ২০ মার্চ ২০২১ | ১২:৫৭ অপরাহ্ণ | 110Views

মানুষ গড়ার কারিগরের মুখে এ-কী কথা!!!

এম. আর মাহমুদ
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম সাহেব একজন যোগ্য ব্যক্তি। নিশ্চয়ই তিনি মানুষ গড়ার কারিগরও ছিলেন। তিনি গেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ৫ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে-ভাগেই দরজার কড়া নাড়ছে ইউপি নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন হয়তো রমজানের পরে দেশের সবক’টি ইউনিয়ন পরিষদের তফসিল ঘোষণা করবেন। এ কারণেই ভোটারদের ভয় দেখানোর জন্য অকপটে বলে বসেছেন, পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে নৌকায় ভোট নেবেন।

অধ্যক্ষ শাহ আলম সাহেব শুধু হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত নন। তার আরেকটি পরিচয় রয়েছে তিনি সাবেক মন্ত্রী পরিষদ সচিব শফিউল আলম সাহেবের আপন সহোদর। সুতরাং দলীয়ভাবে তার একটি গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। নির্বাচনের আগেই নির্বাচনের প্রস্তুতি সভায় ১৬ মার্চ রাতে ওই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের হাতিরঘোনা এলাকায় নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আঞ্চলিক ভাষায় বলেছেন, পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে ভোট নেবেন। এ বক্তব্যের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদটি গুরুত্বসহকারে ছাপানো হয়েছে।

তিনি বক্তব্যে আরো বলেছেন তাকে ছাড়া নৌকা দেয়ার কোন লোক নাই। বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তাকে নৌকা প্রতীক দেবে। এটা তার নিজস্ব অভিমত। তবে আওয়ামী লীগের নমিনেশন বোর্ড কাকে? দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেবে সেটা নমিনেশন বোর্ডের এখতেয়ার।

পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে নৌকা ভোট নেয়ার ঘোষণার সাথে আরো বলেছেন, ‘পুলিশ সরকারের গুন্ডা বাহিনী, এ সরকার নৌকার সরকার’ তাই পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে ভোট নেয়ার কথাটি বললেও সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে যুক্তিসঙ্গত উক্তি হিসেবে মেনে নিতে পারছে না।

প্রথমত তিনি বিগত ৫ বছর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তার ভাই ছিলেন মন্ত্রী পরিষদের সচিব। নিশ্চয়ই তিনি ইউনিয়নের উন্নয়ন করেছেন। তারপরও তিনি সেই ইউনিয়নের জনগণের উপর আস্থা রাখতে না পারার রহস্যটা কি আমজনতার মাথায় আসছে না?

গ্রামের একটি প্রবাদ বেশিরভাগ মানুষের মুখে শোনা যায় ‘পিটিয়ে কাঁঠাল পাকানো যায়, তবে সেই কাঁঠাল খাওয়া যায় না।’ হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের ভোটারদের উপর আস্থা থাকলে বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম সাহেব পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে ভোট নেয়ার কথাটি বলতেন না। হয়তো তিনি জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। যার কারণে পুলিশের উপর ভরসা করে নৌকা প্রতীক বাগিয়ে নিয়ে নির্বাচন করে পুনরায় বৈতরণী পার হওয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত।

তিনি দুঃখজনক হলেও একটি আপত্তিকর কথা বলেছেন যা তিনি হয়তো একবারও চিন্তা করেনি। পুলিশ কোন দলের আজ্ঞাবাহী গুন্ডা নয়। তবে সরকারের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি বাহিনী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে তারা যেকোন সময় যেকোন পরিস্থিতিতে ভূমিকা রাখবেন। এতে কোন সন্দেহ নেই।

তবে শাহ আলম সাহেবের কথামত নৌকা প্রতীকে পিটিয়ে ভোট নেয়ার জন্য পুলিশকে ব্যবহার করবে তা কখনো গ্রহণযোগ্য বক্তব্য নয়। শাহ আলম সাহেব দলের ও পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি চরমভাবে ভুলুন্ঠিত করেছেন যা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ধরণের কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তি দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে যাচ্ছে।

তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে এতদিন ধরে নির্বাচন নিয়ে যে বিরোধী দল বলে আসছে তার সত্যতা তিনিই প্রমাণ করে ছাড়লেন। এসব কথার কারণেই হয়তো বিএনপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে তারা আর কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। হলদিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্যের আগেই বিএনপি সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেছে।
প্রসঙ্গক্রমে না বললে হয়না একটি সুন্দর ফুল বাগানের সৌন্দর্য্য নষ্ট করতে একটি হুতুম পেঁচাই যথেষ্ট। সবশেষে বলতে হয় একটি যাত্রীবাহী গাড়ীতে সবকজন যাত্রী পাগল হলেও সমস্যা হয় না। তবে গাড়ীর চালক পাগল হলে কোন যাত্রীই আর নিরাপদ থাকে না। অতএব মন্তব্য নি®প্রয়োজন।

এম.আর মাহমুদ
তাং- ২০/০৩/২০২১ইং

-Advertisement-
Recent  
Popular  

Our Facebook Page

-Advertisement-
-Advertisement-