শনিবার, ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ১লা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
আজ শনিবার | ১৫ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কক্সবাজারের পোকখালী রাবার ড্যামে অনিয়ম, হুমকিরমুখে সহস্রাধিক একর ধানক্ষেত

বৃহস্পতিবার, ০১ এপ্রিল ২০২১ | ৫:৩৬ পূর্বাহ্ণ | 112Views

কক্সবাজারের পোকখালী রাবার ড্যামে অনিয়ম, হুমকিরমুখে সহস্রাধিক একর ধানক্ষেত

সেলিম উদ্দীন,কক্সবাজার।

কক্সবাজার সদরের পোকখালী রাবার ড্যাম পানি ব্যাবস্থাপনা নিয়ে চরম নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলেছে কৃষক সমাজ।

সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে ঈদগাঁও নদীর পোকখালীতে রাবার ড্যাম স্থাপন করলেও কোন সুফল পাচ্ছেনা প্রান্তিক চাষী, কৃষক ও সাধারণ জনগন।

তুঘলকি কায়দায় রাবার ড্যাম আগলে রাখা পোকখালী-নাইক্ষ্যংদিয়া ও চৌফলদন্ডী পানি ব্যবস্হাপনা সমবায় সমিতি’র অতি লোভের কারণে পানি কান্ডের ঘটনায় সেচ সংকটে পড়েছে সহস্রাধিক একর বুরো ধানক্ষেত।

রাবার ড্যাম ফুলিয়ে নদীতে জমানো পানি ইচ্ছাকৃতভাবে সাগরে ছেড়ে দিয়ে কৃত্রিম পানি সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কান্ড ঘটিয়ে উল্টো সেচের পানির চরম সংকট দেখা দেয়ায় ইতিমধ্যে ধানক্ষেত গুলো ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

যদি খুব সহসাই বৃষ্টি না হয় তাহলে মাঠেই মারা যাবে সহস্র একরের ধান চারা।

এতে ফসল তুলতে না পেরে শত কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়বেন চাষীরা।

এজন্য রাবার ড্যাম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা পোকখালী-নাইক্ষ্যংদিয়া ও চৌফলদন্ডী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতিকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারী মাসে রাবার ড্যাম ফুলিয়ে খালের পানি অতীতের চেয়ে রেকর্ড পরিমাণ পানি জমা রাখার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে ধানের বীজতলা তৈরীর জন্য বিলে পানি সরবরাহ করা হয়নি।

এতে প্রচুর পানি জমে খাল টইটম্বুর হয়ে যায়। তখন উজানের ঈদগাঁও রাবার ড্যাম থেকে পোকখালী রাবার ড্যাম পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার নদীতে লক্ষ লক্ষ কিউসেক পানি জমে দুই পাশের বেড়িবাঁধ উপচে পড়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়।

কিন্তু প্রকৃতির দান বিপুল পরিমান এই পানি কৃষকদের কোন কাজে আসেনি। আটকানো পানি তখন বিল, বীজতলা ও ধানক্ষেতে সরবরাহ না করে কৃত্রিম পানি সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত সেচ মূল্য আদায়ের লোভে রাতের আঁধারে সাগরে ছেড়ে দেয় পোকখালী রাবার ড্যাম কর্তৃপক্ষ।

এতে মাত্র একদিনের ব্যবধানেই নদীর পানি শুকিয়ে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে চর জেগে উঠে। এর ফলে সেচের পানির জন্য চরম হাহাকার সৃষ্টি হয়। তখন থেকেই প্রয়োজনীয় সেচের পানির অভাবে ধুঁকছে সহস্রাধিক একর কৃষি জমি।

সরেজমিন দেখা যায়, নদীর কোন স্থানে হাঁটু পানি, আবার কোন স্থানে চর জেগে উঠেছে।

চাষীরা জানান, অন্যান্য বছরের মত সেচের পানির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের থেকে নির্ধারিত মুল্য চেয়ে কয়েকগুন হারে টাকা আদায় করার জন্যই আগের জমানো পানি ছেড়ে দেয় রাবার ড্যাম কর্তৃপক্ষ।

আর এখন পানি সংকটের অজুহাতে প্রতিদিন দ্বিগুন ত্রিগুন টাকা আদায় করছে।

এতে লক্ষ লক্ষ টাকা বাড়তি দিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা৷
পোকখালীর বাসিন্দা ও ঈদগাঁহ ফরিদ আহমদ কলেজের লাইব্রেরিয়ান নাছির উদ্দীন জানান, শীঘ্রই বৃষ্টি না হলে হাজারো একর জমিতে রোপিত ধানগাছ মারা যাবে।

আইটি বিশেষজ্ঞ ও পোকখালী ইউনিয়ন পরিষদ ডিজিটাল সেন্টারের সাবেক উদ্যোক্তা মুফিজুর রহমান বর্তমানে রামু উপজেলার দক্ষিন মিঠাছড়ি ইউনিয়নের সচিব হিসাবে কর্মরত মুফিজ বলেন, রাবার ড্যাম কমিটির খাম খেয়ালীপনার ফলে পানি সংকটে পড়ে এখন ধানক্ষেতগুলো ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।

এলাকাবাসী জানান, অনিয়ম-দূর্নীতির মাধ্যমে কৃষকদের শোষন করে আসা পোকখালী-নাইক্ষ্যংদিয়া ও চৌফলদন্ডী পানি ব্যবস্হাপনা সমবায় সমিতির কয়েকজন নেতার কলাকৌশলের কারণে দীর্ঘদিন যাবৎ কোন নির্বাচন হতে দেয়া হচ্ছেনা।

ফলে রকমারী অজুহাতে প্রান্তিক চাষীদের শোষন করে আসছে পোকখালী-নাইক্ষ্যংদিয়া ও চৌফলদন্ডী পানি ব্যবস্হাপনা সমবায় সমিতি লিঃ।

সমিতির সভাপতি ও পোকখালী ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ এ ব্যাপারে বলেন, প্রথম মৌসূমে সামান্য ভুলের কারণে জমানো পানি সাগরে চলে গেছে।

পোকখালী-নাইক্ষ্যংদিয়া ও চৌফলদন্ডী পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সেক্রেটারি ও পোকখালী ইউনিয়নের মেম্বার হেলাল উদ্দিন দাবী করেন, প্রথম মৌসূমের ছেড়ে দেয়া পানি এখনো চৌফলদন্ডীর একটি খালে জমা আছে।
প্রায় তিনমাস আগের এই পানি এখনো চাষাবাদের কাজে ব্যবহার হচ্ছে !

আলোচিত এ সমিতির আরো কয়েকজন নেতার কাছে জিম্মি হয়ে আছেন হাজার একর কৃষিখাত ও শত শত কৃষক।

পানি ব্যাবস্থাপনার দায়ীত্বে থাকা সাবেক চেয়ারম্যান কবির আহমদ বলেন,তাকে কমিটির নেতারা দায়ীত্ব দিয়েছেন, তবে আয়কৃত টাকা জমা হয় রশিদ মাষ্টারের নিকট।

তবে তিনিও স্বীকার করেছেন,দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন ছাড়াই এ রাবার ড্যামটি চলে আসছে।নানা অজুহাতে নির্বাচন হতে দিচ্ছেনা চক্রটি।

সংশ্লিষ্ট রাবার ড্যামের অধীন কৃষক ও সচেতন জনগণের অভিযোগ সরকারি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কতিপয় কর্মকর্তা ও রাবার ড্যাম ব্যাবস্থাপনা কমিটির যোগসাজশে রাবার ড্যাম ব্যাবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন ও আয়কৃত বিশালংক নয় ছয় করে নৈরাজ্য অব্যাহত রেখেছে।

তারা অবিলম্বে উন্মুক্ত নির্বাচন আয়োজন ও চলমান অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে জরুরি ব্যাবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুরাইয়া আকতার সুইটি বলেন, এ বিষয়টা আগে থেকেই জানা আছে। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

-Advertisement-
Recent  
Popular  

Our Facebook Page

-Advertisement-
-Advertisement-