সোমবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
আজ সোমবার | ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চকরিয়ায় টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত জনজীবন, পানি বন্দী লক্ষাধিক মানুষ

বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১ | ৯:২০ অপরাহ্ণ | 111Views

চকরিয়ায় টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত জনজীবন, পানি বন্দী লক্ষাধিক মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়ে দুটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে ১ হাজারেরও অধিক পুকুর ও মৎস খামার এর মাছ। শতাধিক গ্রামে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সকাল দশটায় চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের হালকাকারা গ্রামের আরবাবুল ইসলাম নামে ২ বছর বয়সী এক শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে।
গত চারদিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানি অব্যাহত থাকার কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি নিচের দিকে নেমে আসায় মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদ সামীর উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া উপজেলার বদরখালী শাখা কর্মকর্তা (এসও) জামাল মোর্শেদ বলেন, রবিবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কারণে উজানে লামা-আলীকদমের পাহাড় থেকে পানি নিচের দিকে নেমে আসায় সকাল ৯টার দিকে মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমা ৬ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম ৭ দশমিক ১২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মুষলধারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হয়েছে। এরমধ্যে বিএমচর ইউনিয়নের কইন্যারকুম, কোনাখালীর মরংঘোনা ও কুরইল্যারকুম পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে।
জানা যায়, উপকুলীয় অঞ্চলের মাতামুহুরী নদীতে পানি প্রবাহের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন চকরিয়া উপজেলার বিএমচরের কইন্যারকুম সকালে ও কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা পয়েন্টে বিকেলে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে যায়। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়বে, তাতে বেড়িবাঁধের চরম ক্ষতিসাধন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। টানা ভারিবর্ষণে চলতি মৌসুমে মাতামুহুরী নদীর তীরের জনপদ সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, বরইতলী, সাহারবিল, চিরিংগা, কৈয়ারবিল ইউনিয়ন এবং চকরিয়া পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের নিন্মাঞ্চল হাটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলার পশ্চিমাংশের রেল লাইনের উঁচু রাস্তাটির কারণে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে হারবাং, বরইতলী, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পূর্ববড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর, সাহারবিল, চিরিঙ্গা, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। তার ওপর ভারী বর্ষণ ও বানের পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকায় তলিয়ে যাচ্ছে ক্ষেতের ফসলও।
বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জালাল সিকদার বলেন, ভারী বর্ষণে আমাদের এলাকার বেশিভাগ নিম্মাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ বেশকিছু গ্রামীণ সড়ক পানিতে ডুবে রয়েছে। পানি বন্দি থাকা মানুষের খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকট দেখা দিয়েছে।  
চিরিংগা ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান, চিংড়ি জোন খ্যাত তার ইউনিয়নে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বানের পানির সাথে হাজার হাজার একর চিংড়িঘের ভেঙ্গে একাকার হয়ে গেছে।  
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টিতে পৌরসভার নীচু এলাকার কয়েকটি গ্রাম ও তিনশতাধিক পরিবার জলাবদ্ধতার কাছে জিন্মি হয়ে পড়েছে। আটকে থাকা পানি যাতে দ্রুত নেমে যায় সেজন্য ড্রেনগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে।
কোণাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার বলেন, ভারিবর্ষণে ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মরংঘোনা ও কুরইল্যারটেক পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিলীন হয়ে গেছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। টিউবওয়েল গুলো ডুবে থাকায় তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট তৈরী হয়েছে। এতে ব্যাপক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখিন হবেন উপকূলীয় সাত ইউনিয়নের মানুষ।
মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পশ্চিম বড় ভেওলা ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বাবলা বলেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ইউনিয়নের বেশিরভাগ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে। 
চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী জানান, পৌরসভার পাশাপাশি ১৮টি ইউনিয়নে রান্না করা ও শুকনো খাবার পৌছে দেওয়া হচ্ছে বানবাসির কাছে। তিনি পানিবন্দি বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।  
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, উপকূলী এলাকার সকল স্লুইচগেট গুলো খুলে দিতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে ১৮টি ইউনিয়নের জন্য ৪ টন করে ৭২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১শত বস্তা চিড়া, ২শত কেজি খেজুর ও গুড় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।  
-Advertisement-
Recent  
Popular  

Our Facebook Page

-Advertisement-
-Advertisement-