বৃহস্পতিবার, ১৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
আজ বৃহস্পতিবার | ১৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

চকরিয়ায় সবুজের চাদরে মাতামুহুরি নদীর চর

শুক্রবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ | ৭:২৩ অপরাহ্ণ | 145Views

চকরিয়ায় সবুজের চাদরে মাতামুহুরি নদীর চর

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় প্রেয়সীর আঁচলের মতো  মাতামুহুরি নদী দু’তীর জুড়ে বিছিয়ে দিয়েছে সবুজের শাক সবজি। শুষ্ক মৌসুমে নদীর বুকে জেগে ওঠা চরের বুকে হাজার হাজার কৃষক বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করছেন। যে কেউ তাকালে তার মন ছুঁয়ে যাবে।

এদিকে চকরিয়ায় বিনোদনের কেন্দ্র পরিণত হয়েছে মাতামুহুরি নদীর পাড়। বিকেল হলেই দেখা যায় বিনোদন প্রকৃতির প্রেমীদের ভিড়। এখানে অনেকেই আসেন সময় কাটাতে। কেউ আসেন পরিবার- পরিজন নিয়ে, কেউ বা আসেন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধু-ধু বালুচরে এখন কেবলই সবুজের সমারোহ। সকাল-দুপুরের রোদের প্রকোপ শেষে বিকালের হাল্কা ঠাণ্ডা বাতাসে ফসলি জমির সবুজ সমারোহ ও মায়া ছড়ানো চরের সৌন্দর্য হাতছানি দিয়ে ডাকে দর্শনার্থীদের। মাতামুহুরীর ব্রিজ পয়েন্ট, বেতুয়া বাজান ব্রিজ সংলগ্ন চরে, হাজিয়ান, সুরাজপুর-মানিকপুর, বমুবিলছড়ি, ফাঁসিয়াখালী, উপজেলা মাতামুহুরীর নদীর চর ছাড়াও চকরিয়া উপজেলার হাজিয়ানের চর, চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী, আমাইন্ন্যার চর, কোচপাড়া, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নের ঘাইট্টার চর,কাকারা ইউনিয়নের মাঝের ফাঁড়ি, কৈয়ারবিল ইউনিয়ন এলাকায় মাতামুহুরি নদীর চরে শিম, টমেটো, মরিচ, আলু, বেগুন, লাউ, কুমড়া, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ দুই তীরের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তীর্ণ চরের জমিতে শীতকালীন শাকসবজির চাষাবাদ হয়েছে। পূর্বে যারা আখ চাষে উৎসাহী ছিলেন তারা অনেকেই এখন সবজি চাষে ব্যস্ত। নদীর দুই তীরে চাষাবাদ করে কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন। বেকার সময়ে এসব সবজি চাষ করে ভালো আয় করছেন তারা। কৃষাণিরাও বসে নেই। তারা গৃহস্থালির কাজ কর্ম শেষে কৃষি কাজে কৃষকদের সহায়তা করে। এ চর থেকে সবজি কিনতে আসেন সবজি ব্যবসায়ীরা।

মাতামুহুরি নদীর চরে সবুজের সমারোহকে আরও বিস্তার করা যাবে যদি নদীর চর থেকে অপরিকল্পিত ভাবে বালু মাটি উত্তোলন বন্ধ করাসহ ছিচকে চোর ও গরু ছাগলের হাত থেকে সবজিগুলো রক্ষা করা যায়।

আমাইন্ন্যার চর গ্রামের সবজি চাষি মুহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, মাতামুহুরি নদীর তীরে পলি জমার কারণে এখানকার কম উর্বর জমিতেও সবজির উৎপাদন ভালো হয়। তুলনামূলক কম সার প্রয়োগ করে বাম্পার ফলন পাওয়া যায়।

ফাঁসিয়াখালী দিগরপানখালী গ্রামের কৃষক মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, শীতকালে শুরুতে মুলা, বেগুন, ফুলকপি ও বাঁধাকপির ফলন ভালো হয়েছে। এখন মরিচ রোপণ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস.এম. নাসিম হোসেন বলেন, চরে কৃষকরা যেন ভালভাবে চাষাবাদ করতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা সেই বিষয়ে সার্বিকভাবে সহাযোগিতা করছি। কোন মৌসুমে কি ধরনের ফসল চাষ করতে হয়, কীভাবে বীজ বপন ও চারার পরিচর্যা করতে হয় সে বিষয় গুলোও কৃষকদের জানায়।

তিনি আরো জানান, এ বছর চরের জমিতে উল্লেখযোগ্যহারে সবজির চাষ হয়েছে। টমেটো, বেগুন, সিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, আলুসহ নানা ফসল। ফসলে ফসলে ভরে গেছে নদীর দুই দিকের চরগুলো। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও কৃষকরা নদীপাড়ে নানা ফসল চাষ করে চলেছেন। মাতামুহুরি নদীর দুই পাড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কৃষক ফসল চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহের পথ তৈরি করেছেন। 

-Advertisement-
Recent  
Popular  

Our Facebook Page

-Advertisement-
-Advertisement-