ঢাকাMonday , 13 June 2022
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. কক্সবাজার
  4. চট্টগ্রাম
  5. জাতীয়
  6. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  7. বিনোদন
  8. রাজনীতি
  9. শিক্ষা
  10. সারাদেশ
  11. সাহিত্য
  12. স্বাস্থ্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চকরিয়ায় অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে মিষ্টির কারখানা, প্রশাসন নিরব

Raju Das
June 13, 2022 3:51 pm
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলো ঝলমলে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাচের শোকেসে স্তরে স্তরে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি। ক্রেতারা সর্বোচ্চ দাম দিয়ে মিষ্টি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন অহরহ। আর এই সমস্ত মিষ্টি তৈরি হয় যে কারখানাতে সেই কারখানায় অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে মিষ্টি। এই দোকান কারখানা গুলোতে অভিযান চালানো প্রয়োজন কিন্তু প্রশাসন কেন যে এই সমস্ত স্থানে অভিযান চালান না তা এক বিশাল রহস্য বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

চকরিয়া পৌরশহরে ৮নং ওয়ার্ডে বাঁশঘাট রোডে এই মিষ্টির কারখানা গুলোতে কর্মরত শ্রমিকরা খালি গায়ে, অপরিস্কার ও স্যাঁতসেতে দুর্গন্ধময় স্থানে তৈরী করছে মিষ্টি। এ কারখানা গুলোতে সর্বসাধারণের জন্য প্রবেশ নিষেধ। বাইরের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হয় না বলে জানান স্থানীয় লোকজন। অথচ প্রশাসনের নেই কোনো ধরনের নজরদারী।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরশহরে মিষ্টি ভবনের পাশে অবস্থিত বাঁশরোডে কারখানা। মিষ্টি কারখানার পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে পাওয়া যায় দুর্গন্ধ। কয়েকজন শ্রমিক মিষ্টি তৈরির কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের হাতে নেই হ্যান্ড গ্লাভস এবং মাথায় ক্যাপ থাকার কথা থাকলেও তা নেই। উড়ছে মাছি বিভিন্ন জায়গায় মিষ্টি তৈরির সরঞ্জামাদি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অপরিষ্কার অবস্থায়। দুর্গন্ধ আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। বহু আগে প্রস্তুতকৃত দুধের পসরা হাজার হাজার মৌমাছি ও মাছির দখলে। গন্ধযুক্ত ড্রামে মজুদ করে রাখা ছানা ও দুধে মাছির ভনভনানি। পাশের রুমের ভিতরে রাখা আছে ৩-৪ দিন আগের নষ্ট চিনির সিরা। ওই চিনির সিরা ব্যবহার করা হয় মিষ্টি তৈরির কাজে। এসব দেখলে অরুচি হতে বাধ্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, নোংরা পরিবেশে এসব মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরি হলেও এই কারখানার ধোঁয়ায় এলাকা দূষিত হচ্ছে।কোনো ভ্রাম্যমাণ আদালত বা আইনি জটিলতায় না পড়ায়। অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে তৈরি হয় নানা রং মিশিয়ে কালোজাম, কমলাভোগ, লালমোনসহ অন্যান্য মিষ্টি। যার নেই কোনও মানদণ্ড, নেই অনুমোদনও। এমন অপুষ্টিকর ও অস্বাস্থ্যকর খাবার। এ দোকানদার দের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মিষ্টি কারখানার কারিগর অজিত কুমার দাশের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বর্তমানে এই কারখানাতে ৬ জন কর্মরত রয়েছে। মিষ্টি কি স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে তৈরি করা হচ্ছে? এমন প্রশ্নের কোন উত্তর জানা নেই তার তবে তিনি স্বীকার করলেন হাতে হ্যান্ডগ্লোভস এবং মাথায় ক্যাপ পরা দরকার। কিন্তু প্রচন্ড গরমের কারণে তা মানা সম্ভব হচ্ছে না। 

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরির কারণ জানতে চাইলে মিষ্টি ভুবনের মালিক স্বপন দে বলেন, অন্যদের চেয়ে তাদের কারখানায় হাজার গুণ পরিষ্কার পরিছন্ন পরিবেশ এবং ভাল পণ্য দিয়ে মিষ্টিসহ যাবতীয় সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শোভন দত্ত বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত খাদ্য মানবদেহে প্রবেশ করলে সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান ক্ষতিগুলো হয় আমাদের লিভার, কিডনি, হৃৎপি ধীরে ধীরে এগুলো নষ্ট হয়ে যায়। বাচ্চা ও বৃদ্ধদের বেলায় নষ্ট হয় তাড়াতাড়ি, তরুণদের কিছুটা দেরিতে।

তিনি আরো বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাচ্ছি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে রোগীদের লম্বা লাইন বিভিন্ন রকমের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ অস্বাস্থ্যকর ভেজাল খাবার খাওয়ার কারণে। তাই আগামী প্রজন্মকে রক্ষায় ভেজাল খাবার বন্ধে, প্রশাসন আরও কঠোর হতে হবে। পাশাপাশি ক্রেতাদেরও সচেতন হতে হবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, নিত্যপণের বাজার মনিটরিং সহ নানাবিধ অসঙ্গতিতে প্রশাসন সবসময়ই কাজ করছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্য পেলে অবশ্যই সেই সমস্ত অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে মিষ্টির তৈরি কারখানা গুলোতে অভিযান চালানো হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।