ঢাকাFriday , 8 July 2022
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. কক্সবাজার
  4. চট্টগ্রাম
  5. জাতীয়
  6. পার্বত্য চট্টগ্রাম
  7. বিনোদন
  8. রাজনীতি
  9. শিক্ষা
  10. সারাদেশ
  11. সাহিত্য
  12. স্বাস্থ্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চকরিয়ায় কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে কামারপল্লী

Raju Das
July 8, 2022 2:17 pm
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহাকে ঘিরে শেষ মুহূর্তে কক্সবাজারে চকরিয়ায় কামারপল্লীতে ক্লান্তি ভুলে দিনরাত চলছে হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে ব্যস্ত কামারশিল্পরা।

পুরাতন দা বটি ছুরি ইত্যাদি সরঞ্জাম সংস্কার করাতে কামারের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন লোকজন। কামারের দোকানে কেউ সেসব কাজ বুঝে নিচ্ছেন, কেউবা কাজ শেষ হওয়া সরঞ্জাম বুঝিয়ে দিচ্ছেন। কেউ অনর্গল হাফর টানছেন, কেউবা পোড়া লোহায় হাতুড়ি পেটাচ্ছেন। মালিক কর্মচারী কারোরই নেই দম ফেলার ফুসরত। তাদের টুংটাং শব্দেই যেন জানান দিচ্ছে আর কয়েকদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা।

শুক্রবার (৮ জুলাই) সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পৌর শহরসহ উপজেলার বদরখালী, ইলিশিয়া, বরইতলী, হারবাং, ডুলাহাজারা, খুটাখালী ও বিভিন্ন হাট-বাজারের কামারপল্লীতে কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুরবানির পশু জবাই ও মাংস সাইজ করতে ছুরি, চাপাতি, দা ও বঁটি অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ। সেগুলো সংগ্রহ এবং প্রস্তুত করে রাখতে এখন সবাই ব্যস্ত। পশু কুরবানির দা, ছুরি, চাপাতিসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে এখন থেকেই মানুষ কামার পল্লীতে আসছেন। আবার কেউ কেউ পুরনো সরঞ্জাম মেরামত অথবা শান দিয়ে নিচ্ছেন। দম ফেলবারও যেন সময় তারা পাচ্ছেন না কামার শিল্পরা।

অপরদিকে, বর্তমানে অধুনিক যন্ত্রপাতির প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠে এ শিল্প। শান দেওয়া নতুন দা, বঁটি, ছুরি ও চাকু সাজিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে। দোকানের জ্বলন্ত আগুনের তাপে শরীর থেকে ঝরছে অবিরাম ঘাম। চোখে মুখে প্রচণ্ড ক্লান্তির ছাপ। তবু থেমে নেই তারা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কর্ম ব্যস্ততা। সারা দিন কঠোর পরিশ্রম করলেও তাদের মুখে নেই কোনো উচ্ছ্বাস, নেই প্রাণভরা হাসি। তারপরও আসন্ন কুরবানির ঈদের কথা মাথায় রেখে নতুন আশায় বুক বেঁধে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত চলবে এমন কর্মব্যস্ততা। কিন্তু অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমান সময়ে কয়লা, লোহাসহ সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লোহার জিনিসপত্র তৈরি করলেও তেমন কোনো লাভ হয় না। অনেক সময় কয়লা একেবারেই পাওয়া যায় না। কী আর করব পূর্বপুরুষের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই এই ব্যবসার সাথে জড়িয়ে আছি এখনো।

পৌরশহরে কাঁচাবাজারে কামার শিল্প ছোটন কর্মকার বলেন, বর্তমানে ভালো মানের প্রতিটি দা নেওয়া হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকা চাকু নেওয়া হচ্ছে ১৫০-২০০, ছুরি নেওয়া হচ্ছে ৩০০-৪০০, বঁটি নেওয়া হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। একটি দা, বটি ও ছুরি শান দিতে ৫০ থেকে ৮০ টাকা। আর তৈরি করতে গেলে মজুরিসহ এক কেজি ওজনের একেকটি দা, বটি, চাপাতি ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাদল কর্মকার বলেন, এই পেশায় এখনো আমরা যারা আছি তারা খুবই অবহেলিত। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বেশি হলেও সে অনুযায়ী আমরা আমাদের তৈরি করা সরঞ্জামের ন্যায্যমূল্য পাই না। এখন আমাদের লোহাও বেশি দামে কিনতে হয়। এ পেশায় থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। ভবিষ্যতে সরকারি কোনো আর্থিক সহযোগিতা না পেলে হয়তো এ শিল্প একদিন হারিয়ে যাবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।